সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

গবেষণা-উদ্ভাবনভিত্তিক উচ্চশিক্ষায় জোর সরকারের : ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

Orbit_2026

গবেষণা-উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন।

তিনি বলেন, গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানো, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণায় সম্পৃক্ত করা, উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের অডিটোরিয়ামে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে হবে। গবেষণার ফল শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবায় রূপান্তর এবং নীতিনির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে।

গবেষণায় অর্থায়ন বাড়ানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্পে বরাদ্দ আগে দুই লাখ ৬০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা ছিল। এখন তা বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্যও সরাসরি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা গবেষণা প্রকল্প, মনোগ্রাফ বা অ্যাসাইনমেন্টের জন্য এ অর্থের আবেদন করতে পারবেন।

পিএইচডি গবেষকদের বৃত্তির সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর এ সংখ্যা ৫০০ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পোস্টডক্টরাল বৃত্তির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে দেশের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম জোরদার করতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষকদের দেশে এনে পাঠদানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সহযোগিতা বাড়াতে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সহযোগিতা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফল শিল্পায়নে কাজে লাগানোই এর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান অধ্যাপক আল-মামুন।

উদ্ভাবনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও প্রস্তুত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিএসএস (সম্মান) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের নির্বাচিত সেরা গ্রন্থ ও নিবন্ধের জন্যও পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।