রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার উদ্যোগ প্রশংসনীয়: রুহুল কবির রিজভী

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

চ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মন্তব্য করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রুহুল কবির রিজভী। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

​আজ রোববার (১৬ আগস্ট) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

​বক্তব্যের শুরুতে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান প্রশাসন সময়ের চাহিদা ও শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেসব কর্মমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই অভূতপূর্ব ও সময়োপযোগী। তিনি মনে করেন, এই সংস্কার উদ্যোগগুলোর সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ দেশের উচ্চশিক্ষার বিশাল একটি অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এই বড় পরিসরে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা গেলে সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

​জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে এমনভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে। শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ওই সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে চরমভাবে উপেক্ষা করেছিল। রিমান্ড, গুম ও খুনসহ নানা কায়দায় দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদের আর দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা এবং রাজনৈতিক ঐক্য বজায় না থাকলে তারা অন্য কোনো রূপে ফিরে আসার চেষ্টা করতে পারে বলে তিনি সবাইকে সতর্ক করেন। সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেম নিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

​সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশে জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র নিশ্চিত করা গেলেই কেবল জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক মানদণ্ডে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, বর্তমানে প্রশাসন কোয়ালিটি এডুকেশন, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, ভাষা শিক্ষা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে যত্রতত্র অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালুর কারণে শিক্ষার মান ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দুই বছরে এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিসহ আধুনিক নানা কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহউপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহউপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দীন আহমেদ ও আঞ্চলিক সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তারের সঞ্চালনায় এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএন/