ভবিষ্যতের কর্মবাজারে এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ হবে গেম চেঞ্জার: ভাইস-চ্যান্সেলর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেছেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মবাজারে কেবল প্রচলিত একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের এআই, ডিজিটাল লিটারেসি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা, কার্যকর যোগাযোগ, দলগত কাজ এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানে এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ হবে একটি সত্যিকারের গেম চেঞ্জার।
রবিবার (১৯ জুলাই) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত চারদিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর জানান, শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের সকল বিষয়ে ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্সকে আবশ্যিক করা হয়েছে। নতুন কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজিটাল ইকোনমি, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে নিজেদের আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও দেশের উচ্চশিক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের ঘাটতি রয়ে গেছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণেই দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে আইসিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ মডিউল এবং মানসম্মত রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল প্রস্তুত করছে। এগুলো দেশের প্রতিটি কলেজে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একটি অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক কলেজে শিক্ষক সংকট, আইসিটি ল্যাবের অভাব এবং সীমিত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত এবং তারা শুধু চাকরির জন্য নয়, বরং ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়া, অনলাইন ব্যবসা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতিও ব্যাপক আগ্রহী। তাদের প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা এবং পদ্ধতিগত জ্ঞান। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, এই কোর্সের সফলতা নির্ভর করবে এর মানসম্মত বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ, দক্ষ প্রশিক্ষক, আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীবান্ধব লার্নিং ম্যাটেরিয়াল নিশ্চিত করা হবে। আজকের এই কর্মশালা শুধু একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনমুখী এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. রুহুল কুদ্দুস। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, পেডাগজি ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কোর্স ডিজাইন বিশেষজ্ঞ, ফ্যাসিলিটেটর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।