বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

লালমনিরহাটে তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ত্রাণমন্ত্রী

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে লালমনিরহাট জেলাব্যাপী তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

আজ বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাঁদনী বাজারসংলগ্ন ডিসি পার্কে নিজ হাতে তালবীজ রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

‘বিশুদ্ধ পরিবেশ গড়বো, পৃথিবী সবুজে সাজাবো’ স্লোগানকে সামনে রেখে সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘের উদ্যোগে জেলার পাঁচটি উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন-নতুন দুর্যোগ ও নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের প্রবণতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতো। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সেই প্রাণহানি অনেকটাই শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের আবহাওয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে নতুন-নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘের প্রতিষ্ঠাতা মো. খাইরুল ইসলাম, সংগঠনটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক একরামুল হক সরকারসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে সবুজ সেবা যুব বিজ্ঞান সংঘ। এর আগে সংগঠনটি লালমনিরহাটের তিস্তা থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত রেলপথের দুই পাশে প্রায় ৪০ হাজার তালবীজ রোপণ করেছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন করছে।

জেলাব্যাপী লক্ষাধিক তালবীজ রোপণের এ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা আয়োজকদের। রোপণ করা তালবীজ থেকে চারা উৎপাদন এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।