বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

বীরগঞ্জে ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘বউমেলা’ আগামীকাল

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের আয়োজনে জীবনসঙ্গী খুঁজতে আগামীকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বসতে যাচ্ছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এক ব্যতিক্রমী ‘বউমেলা’। এখানে শুধু কেনাকাটা কিংবা বিনোদনের জন্যই নয়, দূরদূরান্ত থেকে আসা তরুণ তরুণীদের অনেকেই আসেন নিজেদের পছন্দের জীবনসঙ্গী খুঁজতে। মেলার আয়োজক বীরগঞ্জ উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শীতল মার্ডী আজ বৃহস্পতিবার মেলা আয়োজনের সার্বিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামীকাল দিনব্যাপী বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করবেন দিনাজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম।

প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপূজার এক বা দুদিন পর এই মেলার আয়োজন করা হয়। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই আয়োজন ঘিরে প্রতিবছরই উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি বাসিয়াহাট মেলা বা বউমেলা নামে পরিচিত। শীতল মার্ডী জানান, মেলা উপলক্ষে সকাল থেকেই গোলাপগঞ্জ স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকায় মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি বিবাহযোগ্য তরুণ তরুণীদের উপস্থিতি এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের অনেক তরুণ তরুণী এই মেলায় নিজেদের পছন্দের জীবনসঙ্গী খোঁজার সুযোগ পান। কারও সঙ্গে পছন্দ ও বোঝাপড়া তৈরি হলে বিষয়টি পরে পরিবারের কাছে জানানো হয় এবং দুই পরিবারের সম্মতি থাকলে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

বীরগঞ্জ উপজেলা আদিবাসী উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমলা কান্ত হাসদা জানান, মেলায় কাউকে পছন্দ করলেই সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে এমনটি নয়। বরং মেলাটি অনেকের জন্য পরিচয় ও জীবনসঙ্গী নির্বাচনের একটি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক পরিসর হিসেবে কাজ করে। দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এই মেলায় আসেন। তরুণ তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে বন্ধুদের বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় অংশ নেন। মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো সাংস্কৃতিক আয়োজন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নাচ, গান, ঢোল ও মন্দিরার তালে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। মেলা পরিণত হয় বিশাল এক লোকজ উৎসবে। মাঠজুড়ে বসে মিষ্টি, ফুচকা, জিলাপি, পিঠা, প্রসাধনী ও মাটির তৈরি জিনিসপত্রের দোকান।

স্থানীয় আদিবাসী নেতা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিব লাকড়ার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বউমেলার ইতিহাস প্রায় দুই শ বছরের পুরোনো। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষ এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আসছেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাপন ও যোগাযোগব্যবস্থা বদলালেও মেলার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বিন্দুমাত্র কমেনি। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের যুগেও লোকজ ঐতিহ্যের এই বউমেলার আবেদন এখনো ফুরায়নি। শুক্রবার গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে তাই শুধু মেলাই বসবে না, বসবে মানুষের মিলন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর নতুন সম্পর্ক তৈরির এক অনন্য আসর। কারও জীবনে এই মেলাই হয়ে উঠতে পারে নতুন গল্পের প্রথম অধ্যায়।

বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মেলার দিন সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মেলাটি সম্পন্ন করতে পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, আদিবাসী সমাজের এই ঐতিহ্যবাহী বউমেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি তৎপর রয়েছে।