শিরোনাম:
Network News BD
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

ঐতিহ্য হারাচ্ছে তালেশ্বরের কুমারপাড়া, বাপ দাদার পেশা ছাড়ছেন মৃৎশিল্পীরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭ PM ২৩ বার পঠিত
ঐতিহ্য হারাচ্ছে তালেশ্বরের কুমারপাড়া, বাপ দাদার পেশা ছাড়ছেন মৃৎশিল্পীরা

ছবি: নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

একসময় সকাল হলেই বাগেরহাট সদর উপজেলার তালেশ্বর কুমারপাড়ায় শোনা যেত মাটির চাকার ঘূর্ণনের শব্দ। বাড়ির উঠানে সারি সারি হাঁড়ি পাতিল, কলসি, সরা, মটকা ও ফুলের টব রোদে শুকাতে দেওয়া হতো। নারী পুরুষ সবাই মিলে মাটির তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বানিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের দাপটে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় তালেশ্বর কুমারপাড়ায় দুই শতাধিক পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল। বর্তমানে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫ পরিবারে। অনেকেই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে চলে গেছেন। যাঁরা এখনো বাপ দাদার পেশা ধরে রেখেছেন, তাঁরাও আয় ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

অস্তিত্ব সংকটে কুমার পরিবারগুলো

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি বাড়িতে এখনো মাটির কাজ চলছে। কেউ চাকায় মাটি তুলে থালা বাটি তৈরি করছেন, কেউ তৈরি পণ্য রোদে শুকাচ্ছেন। আবার কেউ আগুনে পুড়িয়ে তা বাজারজাত করার জন্য প্রস্তুত করছেন। তবে আগের সেই কর্মচাঞ্চল্য আর নেই। অনেক বাড়িতেই পড়ে আছে অব্যবহৃত মাটির চাকা।

প্রবীণ মৃৎশিল্পী রবিন পাল জানান, আগের মতো এখন আর মাটির জিনিস চলে না। প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের কারণে এগুলোর চাহিদা অনেক কমেছে। অথচ মাটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে পণ্য তৈরি, শুকানো, রং করা ও পোড়ানো পর্যন্ত অনেক বেশি শ্রম দিতে হয়। মাসে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ করে কাজ করার পর লাভ থাকে মাত্র আট হাজার টাকার মতো। পরিবারের সবাই মিলে কঠোর পরিশ্রম করেও সংসারে তেমন সচ্ছলতা আসে না।

আরেক মৃৎশিল্পী সুমন পাল জানান, বাপ দাদার কাছ থেকে শেখা পেশাটি তিনি এখনো ধরে রেখেছেন। তবে মাটি ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও মাটির পণ্যের দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে আগের মতো আর লাভ হচ্ছে না।

মৃৎশিল্পী নমিতা রাণী পালের মতে, অন্য কোনো কাজ জানা নেই বলেই তিনি বাধ্য হয়ে এই পেশা ধরে রেখেছেন। বিভিন্ন হাটে দোকান দিয়ে যা বিক্রি হয়, তা দিয়ে কোনোমতে তাঁর সংসার চলে।

আধুনিকায়নের অভাব ও সরকারি সহায়তার দাবি

শিল্পী খগেন পাল জানান, বিদ্যুৎচালিত চাকা ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কাজ করতে অনেক বেশি শ্রম দিতে হয়। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। তালেশ্বর গ্রামের দিপালী রানী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ফুলদানি, চায়ের কাপ ও ডিনার সেটের মতো শৌখিন পণ্যের চাহিদা রয়েছে। তবে সঠিক প্রচার ও বাজারজাতকরণের অভাবে সেগুলো ভালোভাবে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. শরীফ সরদার জানান, আধুনিকায়নের অভাবেই মূলত অনেকে পেশাটি ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে মাটির পণ্যের এখনো বেশ চাহিদা রয়েছে। মৃৎশিল্পীদের প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদান ও পণ্য বাজারজাতকরণে সহায়তার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারজাতকরণের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশবান্ধব এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!