সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য ফেরাতে দিনব্যাপী চিঠি উৎসবের আয়োজন

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

‘চিঠির পাতায় লেখা সত্যিকারের অনুভূতি কখনো মুছে ফেলা যায় না, মানুষ ভুলে গেলেও শব্দগুলো হৃদয়ে নিজের জায়গা করে রেখে যায়’ এমন আবেগঘন প্রতিপাদ্যে নওগাঁয় হয়ে গেলো ব্যতিক্রমী এক ‘চিঠি উৎসব’।

আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া চিঠির ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরিয়ে দিতে নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে আজ সোমবার দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। এ উৎসবে কয়েক’শ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

আজ সকালে এ চিঠি উৎসবের উদ্বোধন করেন, ডাক বিভাগ রাজশাহী অঞ্চলের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ উপ ডাক বিভাগের পরিদর্শক মো. সানোয়ার হোসেন, নওগাঁ প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মু. হযরত আলী, বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারি সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো: ইদ্রিস আলী শেখ, শহর পরিদর্শক মো. সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।

আজ সোমবার সকাল থেকেই নওগাঁ সরকারি কলেজ চত্বরে উৎসবকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বর্তমান যুগের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা খুদে বার্তার যুগে কাগজের পাতায় কলম ছুঁইয়ে মনের কথা প্রকাশের এ সুযোগ লুফে নেয় তরুণ-তরুণীরা। বর্তমান ডিজিটাল যুগে চিঠির খাম আর ডাকটিকিটের চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই ছিল একেবারে নতুন ও রোমাঞ্চকর।

দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে প্রিয়জনের কাছে চিঠি পাঠানোর সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা উৎসবস্থলে বসেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও ফেলে আসা শৈশবের বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন সব চিঠি লেখে। লেখার পর নিজ হাতে সেগুলো কলেজ চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী লাল ডাকবাক্সে জমা দেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া নওগাঁ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিয়ান শারমিন আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি কোনদিন কাগজে কলমে চিঠি লিখে কোথাও পাঠাই নি। এটিই প্রথম। আমরা তো সবসময় মেসেঞ্জারে বা ফোনে কথা বলি। কিন্তু আজ প্রথম নিজ হাতে একটা চিঠি লিখলাম। কাগজের পাতায় নিজের হাতে অনুভূতি লিখে পাঠানোর আনন্দটা যে এত বেশি হতে পারে, তা আজ চিঠি না লিখলে বুঝতেই পারতাম না।’

গণিত অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল বাসসকে বলেন ‘আমি সবশেষ ২০১১ সালে একটি চিঠি লিখেছিলাম। সেটি ছিলো প্রথম। আর আজ জীবনে দ্বিতীয়বার কাগজে চিঠি লিখলাম। চিঠি লেখার সুযোগ পেয়ে এবং বিনামূল্যে চিঠি পাঠাতে পেরে খুব ভাল লেগেছে। ডাক বিভাগের এমন আয়োজনে আমরা খুশি।

এ সময় ডাক বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল মো. রাকিব বিশ্বাস বাসসকে বলেন শিক্ষার্থীদের জমা দেয়া চিঠিগুলো উৎসব শেষে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান যুগে দ্রুত যোগাযোগের অনেক মাধ্যম থাকলেও চিঠির গভীরতা ও চিরন্তন আবেদন অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মাঝে চিঠি লেখার এইসুপ্ত অভ্যাসকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে এবং ডাক বিভাগের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সেবা সমূহ ঢেলে সাজানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্পীড পোস্ট সার্ভিসের মাধ্যমে মালামাল পৌঁছে দেয়া হচ্ছে এবং এ সেবা গ্রহণ করে মানুষ ডাক সেবা গ্রহণে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠছেন।