বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

অবকাঠামোহীন রুহিয়া বাংলা বাজার: সড়কে পসরা, জিম্মি সাধারণ মানুষ

Orbit_2026

পাকিস্তান আমল থেকে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ‘রুহিয়া বাংলা বাজার’-এর চরম অবকাঠামোগত বেহাল দশার কারণে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বাজারের ভেতরে কেনাবেচার ন্যূনতম পরিবেশ না থাকায় বাধ্য হয়ে কাঁচামাল বিক্রেতারা রুহিয়া চৌরাস্তাসহ আশেপাশের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে বসছেন। এতে প্রস্তাবিত রুহিয়া উপজেলা শহরে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, আর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমল থেকেই রুহিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ‘বাংলা বাজার’ পরিচিতি লাভ করে। একসময় পুরো উত্তরপদের কৃষি ও বাণিজ্য এই বাজারকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতো। তবে দীর্ঘদিনের সংস্কারহীনতা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং আধুনিকায়নের অভাবে ঐতিহাসিক এই বাজারটি আজ প্রায় অকার্যকর। বর্তমানে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে কাদা-পানি, নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা বর্জ্য অপসারণের নিয়ম। শেডগুলো ভেঙে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় ভেতরের পরিবেশ সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাজারের ভেতরে পসরা বসানোর সুযোগ না থাকায় কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন রুহিয়া চৌরাস্তাকে। প্রধান সড়ক ও ব্যস্ত মোড় দখল করে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দোকানপাট বসায় প্রতি মুহূর্তে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট।

চৌরাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কায়েম করা স্থায়ী-অস্থায়ী কাঁচাবাজারের কারণে ছোট-বড় যানবাহন আটকে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।

ব্যস্ত সড়কে কেনাবেচা চলায় প্রতিদিন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘকালের পুরোনো এ বাজারটির অবহেলা রুহিয়া শহরের স্বাভাবিক গতিকে থামিয়ে দিয়েছে। বাজার করার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমরাও চাই না রাস্তায় বসে কেনাবেচা করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়াতে। কিন্তু মূল বাজারের ভেতরে কোনো অবকাঠামো না থাকায় ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বাধ্য হয়েই আমাদের চৌরাস্তায় আসতে হয়েছে। প্রশাসন যদি স্থায়ী বাজার পুনঃসংস্কার করে দেয়, তবে আমরা এখনই রাস্তা ছেড়ে চলে যাব।

সংকট কাটাতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও ব্যবসায়ীরা অভিন্ন দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পাকিস্তান আমলের ঐতিহাসিক এই ‘বাংলা বাজার’-কে অবিলম্বে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সুপরিসর শেড নির্মাণের মাধ্যমে পুনরায় কার্যকর করতে হবে। একই সাথে রুহিয়া চৌরাস্তাকে যানজটমুক্ত রাখতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজারগুলো নির্ধারিত স্থায়ী বাজারে স্থানান্তরের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।