মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

রুহিয়া উপজেলায় নামজারি বন্ধে চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

Orbit_2026

রুহিয়া ​উপজেলা হিসেবে উন্নীত হওয়ার পর কেটে গেছে বেশ কিছুটা সময়। প্রশাসনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে শুরু করলেও এখনো নতুন দিগন্তের আলো পৌঁছায়নি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায়। প্রশাসনিক জটিলতায় রুহিয়া উপজেলায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ভূমি নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রম। ফলে চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা।

জানা যায়, রুহিয়া উপজেলা গঠনের আগে এ এলাকার ইউনিয়ন গুলো ঠাকুরগাঁও সদঁর উপজেলা ভূমি অফিসের অধীনে ছিল। চলতি বছরের ৭ মে প্রশাসনিক পূর্নবিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকারের) বৈঠকে ঠাকুরগাঁও সদঁর উপজেলা ভেঙে ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ঘোষণার কয়েক মাস আগে থেকেই রুহিয়া এলাকার নামজারি বন্ধ থাকার।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত নামজারি বা রেকর্ড সংশোধনের কোনো সুযোগ মিলছে না নতুন এ উপজেলায়। জায়গা-জমি বিক্রি, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিজের নামে করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে জমি হস্তান্তর—সব কাজই এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।

​রুহিয়া উপজেলার রাজাগাঁও এলাকা থেকে আসা এক ভুক্তভোগী বলেন, “জরুরি চিকিৎসার খরচের জন্য কিছু জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নামজারি না থাকায় ক্রেতা জমি কিনতে চাচ্ছেন না। ভূমি অফিসে গেলে বলা হচ্ছে ওপরের নির্দেশনা ছাড়া নামজারি কাজ শুরু সম্ভব নয়।

রুহিয়া মধুপুর কালিতলা বাজারের ব্যবসায়ী শাহিরুল ইসলাম বলেন, ব্যবসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকার প্রয়োজন। সে জন্য জমি বন্ধক রেখে লোন নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় লোনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না এবং আমি ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারছি না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।

আরও অনেক সেবাগ্রহীতা নামজারির অপেক্ষায় রয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তাদের কেউ জমি বিক্রি করতে পারছেন না, কেউ জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে পারছেন না। আবার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারি না হওয়ায় সম্পত্তি বণ্টনেও জটিলতায় পড়ছেন অনেকে।

এ বিষয়ে রুহিয়া বাজারের কয়েকজন বাসিন্দা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রুহিয়া উপজেলা ঘোষণার সময় তারা ভেবেছিলেন সরকারি সেবা তাদের আরও কাছে আসবে। কিন্তু নামজারির মতো মৌলিক একটি সেবা যদি স্বাভাবিকভাবে না পাওয়া যায়, তাহলে নতুন উপজেলা হওয়ার সুফল কোথায় এমন প্রশ্ন তাদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন উপজেলা গঠনের পর ভূমি ব্যবস্থাপনার তথ্য ও দাপ্তরিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনো রুহিয়া উপজেলার জন্য ভূমি কর্মকর্তা পদ সৃজন হয়নি। ফলে নামজারির আবেদন গ্রহণ করা গেলেও সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আইডিতে স্থানান্তর করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি নতুন প্রশাসনিক উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাধারণ মানুষের সেবা হাতের নাগালে পৌঁছে দেওয়া। অথচ প্রয়োজনীয় কারিগরি ও দাপ্তরিক প্রস্তুতি ছাড়া এ ধরনের স্থবিরতা সরকারের জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন নিশ্চিত করে নামজারি কার্যক্রম চালুর জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে যতদিন না পর্যন্ত নামজারির এই ডিজিটাল ও দাপ্তরিক জট ছাড়ছে, ততদিন রুহিয়ার হাজারো মানুষের ভোগান্তির অবসান ঘটার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।