মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন, পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নাকচ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

য়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করেছে প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যুর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের পর হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের নিয়ন্ত্রণকক্ষে আগুন লাগে। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ির ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি জানান, বিভিন্ন তালিকা, হাসপাতালের রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হয়েছে। একটি তালিকায় মৃত দেখানো একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। অপর দুজনের পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। আরও দুজনের মৃত্যুর কারণ তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রশাসন পায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। তবে আতঙ্কে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। ১০ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে লিফটের নিয়ন্ত্রণকক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে কোনো ওয়ার্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আগুনের পর হাসপাতালের কয়েকটি লিফট কিছু সময় বন্ধ ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পদদলিত হয়ে ছয়জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের যাচাইয়ে ওই মৃত্যুর হিসাব নিয়ে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।