মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পশ্চিম মিঠাখালী নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, জমি, আর্থিক কার্যক্রম, নুরানী মাদ্রাসা পরিচালনা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাদ্রাসার সভাপতি শাহাদাত ফরাজী। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সামনে মঠবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির নিচে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
শাহাদাত ফরাজী অভিযোগ করেন গত ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড তাকে সভাপতি রেখে নয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়। কিন্তু এরপর থেকেই মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন তাকে সভাপতি পদ থেকে সরাতে বিভিন্ন দপ্তরে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে আসছেন। নিয়মিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও অ্যাডহক কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এমনকি তাকে অপসারণের উদ্দেশ্যে ভুয়া রেজুলেশন ও সভাপতির সিল তৈরিরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন মাদ্রাসা ও সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতক জমি দখল করে সুপার নিজের জমির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। পাশাপাশি মাদ্রাসার নামে থাকা প্রায় পাঁচ একর জমি বন্ধক দেওয়ার অর্থ কোথায় জমা হয়েছে তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে অনুমোদন ছাড়া নুরানী মাদ্রাসা পরিচালনা, অর্থ আদায়, সুপারের স্বজনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ এবং একই কর্মচারীর একাধিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার উপবৃত্তি, নিয়োগ, বরাদ্দের অর্থ ও আয় ব্যয়ের হিসাব নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেন সভাপতি।
গত ২০ আগস্ট মাদ্রাসা চলাকালীন সভাপতির অপসারণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের অংশ নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে শাহাদাত ফরাজী অভিযোগ করেন। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন তিনি কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চান না বরং একটি সুষ্ঠু তদন্ত চান। নিজের বা সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা যেকোনো অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সভাপতি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাদ্রাসার কমিটি গঠন, জমি, আয় ব্যয়, নিয়োগ, নুরানী মাদ্রাসার কার্যক্রম এবং মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণসহ সব অভিযোগ তদন্তে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান।