বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

ন্যানো ফিশ ফিডের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবি অধ্যাপক জাভেদ

Orbit_2026

মাছের খাদ্যে অতি ক্ষুদ্র আকারে খনিজ ও ভিটামিন যুক্ত করার পদ্ধতি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে পেটেন্ট পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও NAME Lab-এর পরিচালক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। তাঁর উদ্ভাবিত ‘ন্যানো ফিশ ফিড’ তৈরির পদ্ধতিটি দেশের মৎস্যখাতে খাদ্যের পুষ্টিমান বৃদ্ধি এবং অপচয় কমাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১ নভেম্বর (রোববার) পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (DPDT), বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত Notice of Grant-এর মাধ্যমে পেটেন্ট সিরিয়াল নম্বর ১০০৭১৮৮-এর অনুমোদন নিশ্চিত করা হয়। ‘A Formulation Process of Smart Nano-Micro Size Fish Feed with Vitamins’ (ভিটামিনসহ স্মার্ট ন্যানো-মাইক্রো আকারের মাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া) শিরোনামে এ পেটেন্ট দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান জানান, মাছের খাদ্যে আয়রন, জিংক, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান এবং ভিটামিন অতি ক্ষুদ্র আকারে মিশিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পেটেন্ট পেয়েছেন। তাঁর মতে, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুষ্টি উপাদান মাছের শরীরে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

উদ্ভাবিত প্রযুক্তির কার্যকারিতা সম্পর্কে অধ্যাপক জাভেদ বলেন, মাছ খাদ্যের সব পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে না। অব্যবহৃত অংশ পুকুরের পানিতে জমে বর্জ্যে পরিণত হয়। অন্যদিকে মাছ চাষের মোট ব্যয়ের বড় অংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। ফলে একই পরিমাণ খাদ্য থেকে মাছ বেশি পুষ্টি গ্রহণ করতে পারলে চাষির উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি পুকুরের পানিদূষণও হ্রাস করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দেশের মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও নিউট্রিয়েন্ট বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ন্যানো প্রযুক্তিনির্ভর এ ফর্মুলেশন ব্যবহার করা গেলে অল্প পরিমাণ উপাদান দিয়েই অধিক কার্যকারিতা পাওয়া সম্ভব। এতে খাদ্যের অপচয় কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস এবং মাছের গুণগত মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ব্যবহারের জন্য কৃষিজমিতে সার প্রয়োগের মতো আলাদা কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই। প্রচলিত ফিড মিলে মাছের খাদ্য তৈরির সময় অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের সঙ্গে এটি মিশিয়ে দেওয়া যাবে। ফলে নারিশ, কাজী ফার্মস কিংবা আফিলের মতো মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত অক্টোবর মাসে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের জন্য প্রথম পেটেন্ট অর্জন করেন অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। ন্যানো ফিশ ফিডের পেটেন্টটি তাঁর দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন।