জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াড ২০২৭-এর প্রাথমিক পর্ব। এতে ঢাকার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে ঢাকা অঞ্চলসহ দেশের আটটি বিভাগের ১৫টি অঞ্চলে একযোগে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এইচএসসি এবং এ-লেভেল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে পায়রা উড়িয়ে অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শারমীন। উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক র্যালি বের করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, রসায়ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিযোগীরা অংশ নেন। পরে ভাষা শহীদ রফিক ভবন ও রসায়ন বিভাগের সামনে প্রতিযোগীদের নিবন্ধন করতে দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিক পর্বে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রথম ১০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া সারা দেশ থেকে মেধাক্রম অনুসারে নির্বাচিত ২০০ জন শিক্ষার্থী আগামী ২৮ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অনুষ্ঠেয় চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন।
চূড়ান্ত পর্বে মেধাক্রম অনুযায়ী নির্বাচিত চারজন শিক্ষার্থী ২০২৭ সালে তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রসায়ন অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। আগামী বছরের ১৯ থেকে ২৮ জুলাই এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে ১৬তম বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আমিনুল হক বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো এ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে। আজ সকাল থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ঢাকার আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। বিকেলের মধ্যে সব কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যাবে। সেখান থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগামী নভেম্বরে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চার থেকে পাঁচ মাস আগে জাতীয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াড আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদকসহ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবেন।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে রসায়নবিষয়ক জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত শিক্ষার্থী তৈরি করাই এ অলিম্পিয়াডের মূল লক্ষ্য।