আলিমের ফলাফলে মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম তা’মীরুল মিল্লাত টঙ্গী

আলিম পরীক্ষা ২০২৬-এর ফলাফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর ১ হাজার ৪০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি বছর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল অনুযায়ী, বিজ্ঞান ও সাধারণ—দুই শাখা মিলিয়ে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় ২৩২ জন এবং সাধারণ শাখায় ২৩২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ৭৬১ জন এ গ্রেড, ১৩১ জন এ-মাইনাস, ৩৭ জন বি এবং ১০ জন সি গ্রেড পেয়েছেন। অকৃতকার্য হয়েছেন চারজন।
এবার জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির ৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ পাসের হার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৮ দশমিক ৬৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।
এ বিষয়ে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান বলেন, এবারের ফলাফলে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তবে সামগ্রিকভাবে ৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়া তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হার ৬১ শতাংশের কিছু বেশি হলেও তাঁদের প্রতিষ্ঠানে পাসের হার প্রায় শতভাগ। এটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।
তিনি আরও বলেন, শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য মূল্যায়ন করতে চান না তাঁরা। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ফলাফল, নিয়মিত পাঠদান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের প্রস্তুত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারের ফলাফল বিশ্লেষণ করে যেসব ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে পরবর্তী পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি মঈনুল ইসলাম বলেন, জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কমলেও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলের তুলনায় তা’মীরুল মিল্লাতের পাসের হার এবং বিপুলসংখ্যক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্য তুলে ধরে। এ কারণে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশসেরা ফলাফলের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছেন তাঁরা।