কোডিং থেকে অ্যাথলেটিকস, চবির জহিরুলের ক্রীড়াঙ্গন জয়

ল্যাপটপের স্ক্রিনের জটিল লজিক, অ্যালগরিদমের হিসাব আর সেমিকোলনের ভুল খোঁজার বাইরে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের দেখা পাওয়া ভার। তবে প্রচলিত অলিখিত এই ধারণার বাইরে গিয়ে কিবোর্ডের টাইপিং স্পিডের মতো মাঠের ট্র্যাকেও ঝড় তুলেছেন জহিরুল ইসলাম। তাঁর এই পথচলা কেবল পদক অর্জনেই সীমাবদ্ধ নেই, তিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে চাকসুর শহীদ আবদুর রব হল সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
খেলাধুলার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে অষ্টম শ্রেণিতেই একটি স্পোর্টস ক্লাব খুলেছিলেন জহিরুল। পড়াশোনার চাপে তখন সেটি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে এসে তাঁর সেই সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা পুনরায় জাগ্রত হয়। ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট, পরীক্ষা আর ক্লাসের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ধরে রেখেছেন নিজের অ্যাথলেটিক সত্তাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জহিরুলের সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষণীয়। ২০২৩ সালের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তিনি ২০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম, ১০০ ও ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় এবং দীর্ঘ লাফে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০২৪ সালে তিনি ১১০ মিটার হার্ডেলস, দীর্ঘ লাফ এবং চার গুণিতক ১০০ ও ৪০০ মিটার রিলে দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছর ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতায় ২০০ মিটার স্প্রিন্ট এবং দুটি রিলে দৌড়ে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি ১১০ মিটার হার্ডেলস, দীর্ঘ লাফ ও ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে ব্যক্তিগতভাবে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন জহিরুল।
অ্যাথলেটিকসের বাইরেও তাঁর সরব উপস্থিতি রয়েছে। জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে তিনি টিম আইটির অন্যতম খেলোয়াড় ছিলেন। শহীদ আবদুর রব হলের কাবাডি দলের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি এই হলের স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, নিজ এলাকা নরসিংদীতেও তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে লোচনপুর ইয়াংস্টার স্পোর্টিং ক্লাব।
সাধারণ অ্যাথলেট থেকে হলের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে জহিরুল জানান, ক্রীড়াঙ্গনে তিনি যেসব অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, সেগুলো দূর করাই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কথা অনুযায়ী কাজও করে দেখিয়েছেন তিনি। চাকসুর শহীদ আবদুর রব হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এই হলে জিমনেশিয়াম চালু করেন জহিরুল। পাশাপাশি ফুটবল, ভলিবল ও স্পোর্টস উইকের মতো ইভেন্ট আয়োজন, হলের খেলার মাঠ সংস্কার এবং দাবা ও টেবিল টেনিসের মতো ইনডোর গেমসের সরঞ্জাম যুক্ত করেছেন তিনি।

জহিরুল ইসলামের স্বপ্ন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী করে তোলা। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি খেলাধুলা যে মানসিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে, এই বার্তা সবার মাঝে পৌঁছে দিতে চান তিনি। বাজেটসহ অন্যান্য সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে খেলাধুলায় সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে তিনি নিরলস কাজ করে গেছেন এবং ভবিষ্যতেও সাধ্যমতো এই ধারা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।
শুভ্র/