ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেলেন খুবির ২০ শিক্ষার্থী

মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত চারটি ডিসিপ্লিনের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের ২০ শিক্ষার্থীকে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে এসব শিক্ষার্থী এ সম্মাননা অর্জন করেন। তাদের মধ্যে ২০২৪ সালে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের চারজন ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের আটজন এবং ২০২৫ সালে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স প্রোগ্রামের চারজন করে শিক্ষার্থী রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, খন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনুর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী এবং শিক্ষা স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. ইমদাদুল হক।
সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’প্রাপ্ত অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসান এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ।
স্বাগত বক্তব্য দেন, সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আবুসাঈদ খান।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ বিশ্বাসের মা বেবী রানী দে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন এইচ এম মাসুম হাসান ও মো. মাসুম হাওলাদার।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক ফাহমিদা আক্তার অনি ও সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া তাহসিন সুহা।
এ সময় বিভিন্ন স্কুলের ডিন, সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনগুলোর প্রধান, শিক্ষক, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নিকট থেকে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পাওয়ায় বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসানকে সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়।
২০২৪ সালে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা হলেন- অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের রাফিনা কামরুল (স্টুডেন্ট আইডি ২০১৫১৫), সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের জান্নাতুল আজিজ রিয়া (স্টুডেন্ট আইডি ২০১৬০৬), ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের এস এম সায়াদবিন মোস্তফা (স্টুডেন্ট আইডি ২০২১২৬) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের মোঃ বিপুল শাহরিয়ার (স্টুডেন্ট আইডি ২০২৬২৮)।
২০২৪ সালে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা হলেন- অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান (স্টুডেন্ট আইডি ২৩১৫০১) ও মো. মাসুম হাওলাদার (স্টুডেন্ট আইডি ২৪১৫০৭) , সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের ফাইজা আতকিয়া কেয়া (স্টুডেন্ট আইডি ২৩১৬০৮) ও আশিক মন্ডল (স্টুডেন্ট আইডি ২৪১৬২২), ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের সুমাইয়া খাতুন (স্টুডেন্ট আইডি ২৩২১০৫) ও সায়ীদা জামান (স্টুডেন্ট আইডি ২৪২১০১) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের অনিরুদ্ধ বিশ্বাস (স্টুডেন্ট আইডি ২৩২৬০৮) ও তাজুন নেছা রিতু (স্টুডেন্ট আইডি ২৪২৬১৯)।
২০২৫ সালে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা হলেন-অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের আকাশ দত্ত (স্টুডেন্ট আইডি ২১১৫১১), সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের নাবিলা তাসনীম (স্টুডেন্ট আইডি ২১১৬১০), ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের সাদিয়া নওশিন (স্টুডেন্ট আইডি ২১২১১২) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের এইচ এম মাসুম হাসান (স্টুডেন্ট আইডি ২১২৬০৭)।
২০২৫ সালে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পাওয়া মাস্টার্স প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা হলেন- অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের রাফিনা কামরুল (স্টুডেন্ট আইডি ২৫১৫০১), সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের মোঃ মৃদুল হোসেন (স্টুডেন্ট আইডি ২৫১৬১০), ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের এস এম সায়াদবিন মোস্তফা (স্টুডেন্ট আইডি ২৫২১০১) এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের মালিহা আযাদ ইভা (স্টুডেন্ট আইডি ২৫২৬১২)।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডিন’স অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষেত্রে অসাধারণ ফলাফলের স্বীকৃতি। এ অর্জন তাদের ভবিষ্যৎ পথচলা ও কর্মজীবনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশে-বিদেশে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখবেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এ অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে পিতা-মাতার পাশাপাশি শিক্ষকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের পথ সব সময় অনুকূল থাকে না। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে এবং দেশের কল্যাণে অবদান রাখার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।