মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

শুভ্র কাশফুলের দেশে: বালাসী ঘাটে বন্ধুদের সাথে কাটানো একটি দিন

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

শেখ মেহেদী হাসান:

পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝে আনন্দের ফুরসত যেন পাওয়াই যায় না। দেখতে দেখতে অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল ও প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা শেষ হলো। এরপরই সবার মনে কেমন যেন এক গুমোট উৎকণ্ঠা ভর করল। হয়তো আগের মতো সবার সাথে আর নিয়মিত দেখা হবে না। একসঙ্গে কাটানো মধুর সময়, হাসিঠাট্টা আর আনন্দগুলো হয়তো শুধুই অতীত হয়ে থাকবে। এর মধ্যে বন্ধু আবু সাঈদ নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ায় আমাদের বিষণ্ণতা যেন আরও বেড়ে গেল। একদিন ক্লাসের বেঞ্চে বসে থাকতে থাকতে সুহাদা শিমুসহ কয়েকজন বলে উঠল, আমরা আমাদের এই বন্ধুত্বের সময়গুলো এভাবে শেষ হতে দিতে চাই না। সবাই মিলে একসঙ্গে একটা দিন কাটাতে চাই, অনেক আনন্দ আর মজা করতে চাই।

তাদের কথায় সব বন্ধু সম্মতি জানাল। ব্যস্ততা ও সমস্যার কারণে কেউ কেউ যেতে অপারগতা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত আমাদের ঘুরে বেড়ানোর দিনক্ষণ ঠিক হলো। গন্তব্য গাইবান্ধার বালাসী ঘাটের শুভ্র কাশবন। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টার দিকে আমরা সবাই প্রথমে কলেজ মাঠে জড়ো হলাম। কলেজের হোস্টেল থেকে বন্ধু সাগরকে নিয়ে শহর থেকে বালাসীর উদ্দেশে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। একপর্যায়ে পৌঁছে গেলাম বালাসী ঘাটে। গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়ল ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা। যতই ঘাটের কাছে এগোচ্ছি, ততই দেখতে পাচ্ছি ধু ধু করা বিশাল নদী আর দ্বীপের মতো নদীর বুকে জেগে ওঠা অসংখ্য চর। সেখানে ফুটে আছে শুভ্র সাদা কাশফুল। এমন মোহনীয় প্রকৃতি দেখে আর তর সইছিল না।

আমরা একটি নৌকায় চড়ে বসলাম। আমাদের সঙ্গে দূরদূরান্ত থেকে আসা আরও কয়েকজন ভ্রমণপিপাসু মানুষও উঠলেন। চলতে শুরু করল নৌকা। নদীর কলকল ধ্বনির তালে তালে বন্ধুদের গানের সুরে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। নদীর বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে পেঁজা তুলোর মতো অসংখ্য কাশফুল। চরে নেমেই আমরা ছুটে গেলাম কাশবনে। আরও কিছুটা গভীরে যাওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়ি ঠিক করলাম। টগবগিয়ে ধুলো উড়িয়ে ঘোড়া আমাদের নিয়ে গেল বহুদূরে। চারদিকে শুধু সাদা আর সাদা কাশফুল দেখে সত্যি আমাদের মন জুড়িয়ে গেল। পরীক্ষার একঘেয়েমির কথা অচিরেই ভুলে গেলাম সবাই। চলল মনের আনন্দে ঘোরাঘুরি। বন্ধু আলতাফ, মুরাদ ও রাসেল নানা অঙ্গভঙ্গিতে কাশফুলের সঙ্গে আমাদের একের পর এক ছবি ফ্রেমবন্দী করল।

বিকেল গড়িয়ে এল। ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করায় চরেরই একটি দোকানে সবাই মিলে নাশতা সেরে নিলাম। খানিকটা জিরিয়ে নিয়ে খোলা মাঠে সবুজ ঘাসের ওপর গোল হয়ে বসলাম সবাই। পরবর্তী সময়ে কবে দেখা হবে, পরীক্ষার রেজাল্ট কবে দেবে; এসব নিয়ে চলল নানা গল্পগুজব। সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ল, আমাদের আনন্দের যাত্রাও যেন শেষের দিকে চলে এল। সবাই ছুটে গেলাম ঘাটের দিকে।

ফেরার নৌকায় উঠে সবার মনটা আবার কিছুটা বিষণ্ণ হয়ে পড়ল। দিন হয়তো অনেক আসবে যাবে, কিন্তু এমন স্মৃতিবিজড়িত দিন কি আর সহজে পাওয়া যাবে? যে বিষণ্ণতা দূর করতে এই ঘোরাঘুরি, তা যেন ফেরার পথে আবারও মনের মাঝে জেঁকে বসল। তারপরও মনকে শান্ত করলাম। আশা রাখলাম প্রকৃতির সান্নিধ্যে আবারও ফিরে আসার। এবার আগেই ঠিক করে রাখলাম, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে উঠে সব বন্ধু মিলে আরও বড় পরিসরে বহুদূরে কোথাও ভ্রমণে যাব।

শিক্ষার্থী, গাইবান্ধা সরকারি কলেজ