দুই ঠিকানার মাঝখানে এক নবীন মন

সুমাইয়া তাসনিম:
বাড়ি থেকে দূরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে পা রাখার মুহূর্তটি একই সঙ্গে আনন্দের ও বিষণ্ণতার। একদিকে নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিচয় ও নতুন স্বাধীনতার হাতছানি থাকে। অন্যদিকে থাকে আপন মানুষ আর ফেলে আসা শহরের মায়া। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা যেন এই দুই অনুভূতির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ গল্প।
সকালে ক্লাসে যাওয়ার ব্যস্ততা, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয়, শিক্ষকদের কথা শোনা, সবকিছুতেই থাকে নতুনত্ব। তবুও দিনের কোনো এক অবসরে হঠাৎ মনে পড়ে যায় নিজ শহরে বা নিজ বাড়িতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর স্মৃতি। তখন মনে হয়, কবে যে আবার বাড়ি ফিরব! এই দূরত্বটা শুধু কয়েক ঘণ্টার পথ নয়, কখনো কখনো মনে হয় সেটি অনেক আলোকবর্ষের। বাড়ি আসলে শুধু একটি স্থান নয়, এটি আমাদের সবচেয়ে নিরাপদ অনুভূতির নাম।
প্রতিনিয়ত এক অন্তহীন শূন্যতা, অনিশ্চয়তা ও নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েও নিজেকে গুটিয়ে না নিয়ে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। এখন খুব ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারি মানুষ কত অদ্ভুতভাবে নতুন পরিবেশকে আপন করে নিতে পারে। সেখানে স্বাচ্ছন্দ্য থাকে, আবার কখনো অস্বস্তিকর পরিস্থিতিরও আনাগোনা থাকে। কয়েক দিন আগেও যারা অপরিচিত ছিল, তারাই ধীরে ধীরে আমার সহযাত্রী হয়ে উঠেছে। একসঙ্গে ক্লাস করা, নোট ভাগাভাগি করা, ক্যান্টিনে বসে গল্প করা কিংবা কোনো এক বিকেলে ক্যাম্পাসের পথে উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটা, এসব ছোট ছোট মুহূর্তই তৈরি করে বন্ধুত্বের শক্ত ভিত্তি।
একসময় যে ক্যাম্পাসে প্রথম দিন নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়েছিল, সেখানেই এখন কোনো বান্ধবীর জন্য অপেক্ষা করতে ভালো লাগে। তবুও নিজের শেকড়ের প্রতি টান কখনো শেষ হয় না।
হয়তো বড় হয়ে ওঠার গল্পটাই এমন। একদিকে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুলতা কাজ করে, অন্যদিকে নতুন ডানা মেলে দূরে উড়ে যাওয়ার সাহস জোগায় মন। আর এই দুইয়ের মাঝখানেই আমরা নবীনেরা ধীরে ধীরে শিখে যাই কীভাবে অচেনা জায়গাকে আপন করে নিতে হয় এবং নিজের জন্য একটি নতুন ঠিকানা তৈরি করতে হয়।
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ (১ম বর্ষ)
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়