যবিপ্রবিতে ‘নেক্সটজেন মাইক্রোবায়োলজি-২’, অংশ নিলেন ২৫০ গবেষক-শিক্ষার্থী

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের আয়োজনে ‘নেক্সটজেন মাইক্রোবায়োলজি-২’ শীর্ষক ২য় জাতীয় সম্মেলন। ‘2nd National Conference on Emerging Horizons of Microbiology’ শীর্ষক এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫০ জন গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হাসান এবং জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান।
সম্মেলনের কনভেনর ছিলেন যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার। আয়োজক কমিটির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ছিলেন মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলাম।
উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিনসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির তাঁর বক্তব্যে গবেষণার মূল লক্ষ্য জনগণের প্রয়োজন পূরণে নিবেদিত হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মানুষের বাস্তব চাহিদা ও সমস্যাকে সামনে রেখে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করতে হবে এবং গবেষণার ফলাফল জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। যবিপ্রবিতে গবেষণার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করা এবং গবেষণাকে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় কি-নোট সেশন। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টসের সভাপতি এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. লতিফুল বারী। তিনি মাইক্রোবায়োলজি ও অণুজীববিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং এর বিভিন্ন প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।
ওয়ান হেলথ ল্যাবরেটরি, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও প্রধান এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো ড. জিয়াউর রহমান নিপাহ ভাইরাস, ওয়ান হেলথ ও সংক্রামক রোগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বক্তব্য দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো অধ্যাপক ড. মুনাওয়ার সুলতানা পোল্ট্রিতে প্রোবায়োটিকের ব্যবহারসহ মাইক্রোবায়োলজি ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
দুপুরে বিরতির পর বেলা আড়াইটায় শুরু হয় পোস্টার প্রেজেন্টেশন, গবেষণা পোস্টার প্রদর্শনী ও গবেষণাভিত্তিক ওরাল প্রেজেন্টেশন। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা তাঁদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৫০ জন গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অংশ নেন। তাঁদের অংশগ্রহণে মাইক্রোবায়োলজি, জনস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ, প্রাণিসম্পদ ও জীবপ্রযুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ পর্বে বিকেল সাড়ে ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলামের সঞ্চালনায় এবং সম্মেলনের কনভেনর অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তারের সভাপতিত্বে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মাসব্যাপী আয়োজিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়াডের ফাইনাল রাউন্ডের বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, গবেষণা ওরাল প্রেজেন্টেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াডের বিজয়ীদের মধ্যেও পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে আগ্রহী করে তোলা, গবেষণার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই এ সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।