শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় গোবিপ্রবি আইন বিভাগের অনন্য গৌরব

Orbit_2026

অষ্টাদশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বা বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বা গোবিপ্রবির আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী সহকারী জজ বা সিভিল জজ হিসেবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। একসঙ্গে পাঁচ শিক্ষার্থীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশেষ করে গোবিপ্রবির আইন বিভাগে এবারই প্রথম কোনো নারী শিক্ষার্থী বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় এই অর্জন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এবারের সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আফরিনা আনসারী তুলি, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাসান মাহমুদ ও এমদাদুল ইসলাম, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ শিবলু রহমান এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের দেবব্রত ভট্টাচার্য্য।

সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফরিনা আনসারী তুলি বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আল্লাহর প্রতি আমি লাখো কোটি শুক্রিয়া জানাই। এই পুরো যাত্রায় আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা সবসময় আমাকে সাহস জুগিয়েছে। সবার দোয়া ও আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এই সাফল্য পেয়েছি। অনুজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন কখনো হাল না ছাড়ে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যায়।

সংগ্রাম ও অধ্যবসায়ের গল্প শুনিয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হাসান মাহমুদ বলেন, আমার পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা একদম প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে, এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার থেকে। মাধ্যমিক পাসের পর থেকেই টিউশন করাতাম এবং সেই টাকা দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালাতাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও টিউশনি ও কোচিংয়ে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে গেছি, যা বিজেএস পরীক্ষায় আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। হতাশ না হয়ে লেগে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।

এদিকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের দেবব্রত ভট্টাচার্য্য এলএলএম শেষ হওয়ার আগেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথমবারেই এই সাফল্য অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে নার্ভাস থাকলেও বন্ধু, সিনিয়র ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। অনুজদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, যে সেমিস্টারেই থাকুন না কেন, পড়াশোনার ভিত্তি মজবুত করতে হবে এবং আইনের পাশাপাশি সাধারণ বিষয়ের প্রতি জোর দিতে হবে।

গোবিপ্রবি আইন বিভাগের এই অনন্য সাফল্য নিয়ে আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মানসুরা খানম বলেন, প্রথম ব্যাচ থেকে এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি ব্যাচ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছে। এর আগে আমাদের তিনজন শিক্ষার্থী বিচারক হতে পেরেছিল, তবে এবারই একসঙ্গে পাঁচজন সুপারিশপ্রাপ্ত হলো। এর চেয়েও বড় আনন্দের বিষয় হলো, এবারই প্রথম আমাদের কোনো নারী শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন। শিক্ষার্থীদের সময়মতো পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ তৈরি এবং সেশনজটমুক্ত রাখতে তাঁদের প্রচেষ্টার কথা জানান তিনি।

আইন অনুষদের সাবেক ডিন ও আইন বিভাগের সাবেক সভাপতি ড. মো. রাজিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অর্জন আইন বিভাগ তথা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও পেশাগত পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী হয়ে উঠছে। ১৯তম বিজেএস পরীক্ষায় আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সফলতা অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গোবিপ্রবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার অগ্রযাত্রায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। একসঙ্গে পাঁচ শিক্ষার্থীর বিচার বিভাগে প্রবেশের এই ঘটনা ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদেরও বিজেএসসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।