মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৫৭ মেধাবী শিক্ষার্থী

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ এবং ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।

২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। প্রত্যেককে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এ খাতে মোট ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ জন এবং ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত ৭২৫টি কলেজের ২ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। দুই বছরে এ খাতে মোট ২ কোটি ৯৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে মনিটরিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি নিয়মিত কলেজ পরিদর্শন, শিক্ষার মান যাচাই এবং আয়-ব্যয়ের অডিট নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্কিলভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো এবং কলেজগুলোর ল্যাব সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার, অনলাইন ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও বলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে কারিকুলাম সংস্কার এবং দক্ষতাভিত্তিক ও বাজারমুখী কোর্স চালুর কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান তিনি। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কারিকুলাম সংস্কারের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান উপাচার্য।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।