শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

সিটি ইউনিভার্সিটিতে জুম্মো শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী ও নবীনবরণ

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

সিটি ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো জুম্মো শিক্ষার্থী পরিবারের পুনর্মিলনী, বিদায় ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে জুম্মো শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফ করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুম্মো শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর কাজী শাহাদাত কবির, পিএইচডি এবং রেজিস্ট্রার লে. কর্নেল এম এম গোলাম মইনুল হাইমেন, পিএসসি, জি+, (অব.)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের Directorate of Students’ Welfare (DSW)-এর উপদেষ্টা ও ইংরেজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. রহমান এম. মাহবুব।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং জুম্মো শিক্ষার্থী পরিবারের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের স্মারক দেওয়া হয়। এ সময় বর্তমান ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা, নানা চ্যালেঞ্জ, প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

৫০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের প্রশংসা

অনুষ্ঠানে জুম্মো শিক্ষার্থীদের জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের ৫০ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তারা বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তাঁরা এ উদ্যোগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা, নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়কে ধারণ করে শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও নেতৃত্বের বিকাশেও এ ধরনের আয়োজন ভূমিকা রাখতে পারে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ড. রহমান এম. মাহবুব জুম্মো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় তাঁদের আরও বেশি অংশগ্রহণ এবং মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে জুম্মো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হয়। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও স্থানীয় ফলমূলের আয়োজন ছিল। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

শুভ্র/