শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার রোডম্যাপ প্রণয়ন

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি

পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দুই কোটি বৃক্ষরোপণ ও ‘সবুজ ক্যাম্পাস’ গড়ার একটি যুগান্তকারী রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অংশ হিসেবে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট-ওয়ান ট্রি’ ও ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে ৩০ জুলাই এই সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৩০০টিরও বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সম্পৃক্ত করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়।

​রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে একজন শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করলে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ এবং আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে অন্তত দুই কোটি বৃক্ষরোপণ করা সম্ভব হবে। কেবল গাছ রোপণই নয়, রোপণকৃত গাছের অন্তত ৮০ শতাংশ যেন বেঁচে থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং, জেলা ও বিভাগভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং একটি শক্ত জবাবদিহিতা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এছাড়া পরিবেশগত উপযোগিতা বিচারে অঞ্চলভিত্তিক সঠিক বৃক্ষ নির্বাচন ও স্থান নির্ধারণের বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

​একইসঙ্গে ‘গ্রিন ক্যাম্পাস-গ্রিন এনার্জি’ উদ্যোগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং ইউনেস্কোর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের কলেজগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার বিশদ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। কর্মসূচিটি দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে ভাইস-চ্যান্সেলর একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত কিছু কলেজে পাইলট প্রকল্প চালুর পর তা পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সকল অধিভুক্ত কলেজে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দেশের পরিবেশ রক্ষা, বিরূপ জলবায়ুর প্রভাব হ্রাস এবং একটি সবুজ-টেকসই বাংলাদেশ গঠনে এটি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাইস-চ্যান্সেলর। উপস্থিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন।

​সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার ড. মো. নাজমুল হোসাইন এবং রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন। এছাড়া ইউনেস্কো চেয়ার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নুরুন্নবী, জাইকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এস এম রেজাউল ইসলাম ও কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদসহ ইউনেস্কো, জাইকা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।