সিআরবির সবুজের ছায়ায় তরুণ কলাম লেখকদের সাহিত্য আড্ডা

চট্টগ্রামের আড্ডার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিআরবি। সম্প্রতি এই সবুজের স্নিগ্ধতায় শব্দ, স্বপ্ন বুনন ও সৃষ্টিশীলতার এক মিলনমেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার চট্টগ্রাম (কর্ণফুলী) টিম। গত শুক্রবার মনোরম এই পরিবেশে আড্ডায় মেতে ওঠেন সংগঠনের একঝাঁক তরুণ লেখক ও সাহিত্যপ্রেমী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখার সভাপতি হুমাইরা খানম জেরীন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা ত্বোহা, অর্থ সম্পাদক ও টিম লিডার কাজী মালিহা আকতার, প্রচার সম্পাদক তানজিনা আক্তার চৈতি, কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপটিম লিডার তাসনিয়া তাবাচ্ছুমসহ টিমের অন্যান্য সদস্যরা। এই আড্ডার বিভিন্ন দিক সমন্বয় করেন উম্মে সালমা ত্বোহা।
আড্ডায় মূলত পত্রিকা ও গণমাধ্যমে লেখালেখির কলাকৌশল, বিষয় নির্বাচন, তথ্য সংগ্রহ এবং প্রকাশনার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অভিজ্ঞ লেখকরা নতুনদের বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেন। এ প্রসঙ্গে শাখার প্রচার সম্পাদক তানজিনা আক্তার চৈতি বলেন, সুন্দর এই আয়োজনে সদস্যদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। নতুনরা লেখালেখির বিষয়ে দারুণ উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সরাসরি আড্ডার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থ সম্পাদক কাজী মালিহা আকতার জানান, বিনোদনের জন্য আমরা এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রযুক্তির বাইরে এসে খোলা আকাশের নিচে এই আড্ডা সামাজিকতা চর্চার দারুণ একটি সুযোগ করে দেয়। তিনি জানান, গান, তিলাওয়াত, আবৃত্তি এবং সন্ধ্যার চা-চক্র তাদের আড্ডায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে এমন আয়োজন তরুণদের শুধু লেখালেখি নয়, নেতৃত্ব বিকাশেও সাহায্য করে বলে মনে করেন সাধারণ সদস্য মফিজুর রহমান। তাঁর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা ও সময়ানুবর্তিতা শেখার পাশাপাশি এ ধরনের আড্ডা তরুণদের মাঝে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে।
আড্ডার চমৎকার পরিবেশ নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান আরেক সদস্য জোহরা রোজি। তিনি বলেন, ফোরামে এসে নিজেকে নতুনভাবে চিনতে পেরেছি। সিআরবির মেঘলা আকাশ আর পড়ন্ত বিকেলে রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ‘ভালো আছি, ভালো থেকো’ গানটি যখন সমস্বরে গাওয়া হচ্ছিল, মুহূর্তটি সত্যি দারুণ আবেগঘন হয়ে উঠেছিল।
হাসি, আনন্দ, আড্ডা আর নতুন কিছু শেখার মধ্য দিয়ে সিআরবির এই দিনটি তরুণ লেখকদের কাছে এক স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ডিএ/