পর্দার পেছনের নীরব যোদ্ধা বাবা

জীবনের সব গল্প লেখা যায় না, লেখাও হয় না। সব গল্প লেখা হলে হয়তো পৃথিবীতে অগণিত মহাকাব্য রচিত হতো। বদলে যেতে পারত জীবনের গতিপথ। তেমনি এক না-লেখা মহাকাব্যের নীরব যোদ্ধা হলেন বাবা। বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে বাবাকে নিয়ে নিজেদের আবেগ ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের সেই অনুভূতিগুলোই একসঙ্গে সাজিয়েছেন মুহিবুল হাসান রাফি।
পর্দার পেছনের নীরব যোদ্ধা
বাবাকে স্মরণ করার জন্য শুধু একটি দিন নয়, বরং বছরের প্রতিটি দিনই প্রয়োজন। যারা বাবা দিবস পালন করেন, তারা শুধু এক দিনই স্মরণ করে বাকি সময় ভুলে থাকেন, বাস্তবতা আসলে এমন নয়। এক দিন বিশেষভাবে স্মরণ করার মানে কখনোই ৩৬৫ দিন ভুলে থাকা নয়। হাজার অসাধ্যকে সাধন করে যিনি হাসিমুখে তৃপ্তির ভাব দেখান, তিনিই হলেন বাবা। বাবার মহত্ত্ব অনেক। বাবা কেবল একজন মানুষ কিংবা স্রেফ একটি সম্পর্কের নাম নয়; বাবার মাঝে জড়িয়ে আছে বিশালত্বের এক অদ্ভুত মায়াবী প্রকাশ। সন্তানের মাথার ওপর ছায়ার মতো বাবারা সবসময় অবস্থান করেন। এ জন্যই তো ‘বাবা’ নামটা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো বয়সী সন্তানের হৃদয়ে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার এক অনুভব জাগে। বাবার কাঁধটা অন্য সবার চেয়ে বেশি চওড়া, বিধায় সমাজ ও সংসারের এত দায়ভার তিনি অবলীলায় বয়ে বেড়ান। বাবার ছায়া সবকিছু শক্ত করে আগলে রাখে।
মোহাম্মদ আরিফ শিক্ষার্থী, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।
আমার বটবৃক্ষ
প্রত্যেকের জীবনে বাবাই সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি সন্তানের পাশে থাকেন। প্রতিটি বাবা তার সন্তানের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সেকেন্ডে ভাবতে থাকেন। কোনো কিছু চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করার চেষ্টা করেন। মাথার ওপর ছাদ হয়ে আগলে রাখেন আমাদের। নিজের সমস্ত সুখ ও আরাম বিসর্জন দিয়ে আমাদের মানুষ করার চেষ্টা করেন। আমরা ভুল পথে গেলে সঠিক পথটি দেখান। একদম ছায়ার মতো সব সময় পাশে থাকেন। বাবার প্রতি ভালোবাসা এক পৃথিবী সমান লিখলেও শেষ হওয়ার নয়। অথচ আমরা বড় হলে এই মহান চালিকাশক্তির কথা ভুলে যাই। নিজের জীবন বাজি রেখে শুধু উৎসর্গ করেন সন্তানের জন্য, কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেন না। বাবা শুধু একটি শব্দই নয়; অদম্য উচ্ছ্বাস, অনুপ্রেরণা ও অফুরন্ত শক্তির নাম। যে শক্তি রূপান্তরিত হয়ে সন্তানের সুন্দর জীবনমান উন্নয়নে অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে। বাবারা তাদের আদর, স্নেহ ও ভালোবাসা প্রত্যেক সন্তানের কাছে সমানভাবে ছড়িয়ে দেন। সর্বোপরি বাবা একজন সফলতার বীজ রোপণকারী, যিনি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখিয়ে চলেন। হোঁচট খেলে বুকে আগলে নিয়ে উৎসাহিত করেন। নিজের হাজার ইচ্ছে ত্যাগ করে সন্তানের ইচ্ছে পূরণ করেন। বাবারা সন্তানদের জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য উজ্জীবিত করেন।
সুমাইয়া সোলতানা সুমু এক্স ক্যাডেট, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ বিএনসিসি প্লাটুন।
বাবাবিহীন বাবা দিবস
সন্তানদের কাছে নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক হচ্ছেন বাবা। সন্তানের কাছে শ্রদ্ধেয় এক গভীর অনুভূতির শব্দ এটি। নিখাদ ভালোবাসার সঙ্গে উচ্চারিত হয় ‘বাবা’ শব্দটি। বাবা ছাড়া প্রত্যেকটা দিন-রাত খুব একা লাগে। তার স্পর্শটুকু, সেই মায়াভরা ডাক অথবা মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া খুব মনে পড়ে। বাবা বেঁচে থাকতে কোনো দিন ভাবিনি বাবাকে ছাড়া থাকতে হবে। স্বভাবগত গাম্ভীর্যের জন্য বাবার সাথে সবার ঘনিষ্ঠতা একটু কম থাকে। কিন্তু সেই মানুষের আমাদের প্রতি ভালোবাসার কোনো ঘাটতি থাকে না। বাবা একটা বটগাছের মতো সব সময় ছায়া দেন। আজ আমার বাবা নেই, তাই আমার ছায়াও নেই। আমি এক অভাগা যে কখনো তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারেনি যে, ‘বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ নিজেকে এখন বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে। বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় অনেকগুলো বাবা দিবস পেয়েছি, কিন্তু বাবাকে কখনো বাবা দিবসের শুভেচ্ছা জানানো হয়নি।
মোহাম্মদ রিয়াদ সিকদার শিক্ষার্থী, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।
আমার উপন্যাসের সুপার হিরো
জীবনের প্রথম নায়ক, শিক্ষক এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ের নাম বাবা। সন্তানের মানসিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল বাবা সন্তানের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। উত্তপ্ত সূর্যের তলে সন্তানের জন্য শীতল ছায়া হয়ে থাকেন বাবা। সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় বাবাকে। বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না। সমাজে বাবাদের অনেক ভালোবাসাই নীরব। অনেক বাবা হয়তো সহজে আবেগ প্রকাশ করেন না, কিন্তু পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়তে তারা আজীবন সংগ্রাম করে যান। বাবা দিবস সেই নীরব ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর একটি সুযোগ। সন্তানের জীবনে বাবা হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহারগুলোর অন্যতম। বছরজুড়ে বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পেলেও, আজকের এই বিশেষ দিনটি যেন সন্তানকে মনে করিয়ে দেয় শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবার হাতটি শক্ত করে ধরে বলা, ‘বাবা, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’
মোস্তফা কামাল মাহিম শিক্ষার্থী, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ।

আমার সুপার পাওয়ার
সময় চলে তার নিজস্ব গতিতে।সেই সাথে এগিয়ে চলে মানুষের জীবনধারা। কিন্তুু এক একটা বয়সে, এক একটা পরিচয়। সাথে দ্বায়িত্ব আর কর্তব্য। বলতে চাই এমন একজন বিশেষ মানুষের কথা, যিনি হলেন “বাবা”। হ্যাঁ শব্দটি ছোট কিন্তুু এর মাহাত্ম্য বলে শেষ করার মতো নয়।যার নেই কোন শখ, নেই কোন অভিযোগ। তার সকল কিছু জুড়ে আছে তার পরিবার আর সন্তান। দিন রাত শুধু দিয়ে চলছে সন্তানের মুখে হাসি। সন্তানকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং প্রতিষ্ঠিত করতে বাদ দিয়ে দিয়েছেন নিজের সকল কিছু। যার কাছে সকল আবদার পূরণ হয়,যার কাছে চাইবার আগেই সব পেয়ে যায় তিনি হলেন বাবা। কিন্তুু কখনো কি ভেবে দেখেছি বাবার মন খারাপ হয় কিনা, বুকে কোন কষ্ট আছে কিনা। হয়তো জানা হয়নি কখনো বলা হয়নি বাবা তুমি কেমন আছো? নিরবে সকল কিছু সহ্য করা মানুষটা ভেতরে ও জমে থাকে অনেক কষ্ট,যা হয়তো কখনো কাউকে বলা হয়নি বা কেউ কখনো বুঝেননি। সকল সন্তানকে বট বৃক্ষের মত ছায়া দিয়ে আগলে রেখেছেন “বাবা” নামক মানুষটি। কোন একদিন, কোন এক সময় একান্তে বসে বাবা কে জিজ্ঞেস করবেন তিনি কেমন আছেন? মন কেমন আছে? কি খেতে ইচ্ছে করছে, কোথাও ঘুরতে যেতে চাই কি না। এই প্রশ্ন গুলো একটা বাবার মনকে অনেক বেশি পরিমাণ শান্তি দেয়। সবশেষে বলবেন, বাবা আমি তোমাকে ভীষণ রকম ভালোবাসি। যা কখনো বাবাদের আমারা বলতে পারি না।
চৈতী বড়ুয়া, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ