বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

মেসির হ্যাটট্রিকে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরের মতোই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে আসর শুরু করেছে লিওনেল মেসির দল। আর প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে ভক্তদের প্রত্যাশার পারদ আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন এই ফুটবল জাদুকর। ম্যাচ শেষে মেসির সাবলীল স্বীকারোক্তি, “আমি যখন ভালো অবস্থায় থাকি, নিজেকে উজাড় করে দিই।” মেসির এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের বন্যায় ভাসছেন বাংলাদেশের অগণিত আলবিসেলেস্তে সমর্থক। প্রিয় দলের দারুণ শুরু এবং অধিনায়কের অনবদ্য কীর্তিতে কেমন উন্মাদনা কাজ করছে ভক্তদের মাঝে? বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ আর্জেন্টিনা সমর্থকের সেই আনন্দঘন অনুভূতিগুলোই এক সুতোয় গেঁথেছেন উম্মে সালমা—

মাঠের সবুজ গালিচায় আর্জেন্টিনার জাদুর ছোঁয়া

মাঠের সবুজ গালিচায় যখন জাদুর মতো আলো এসে পড়ে, আর গ্যালারির কোলাহল মিলেমিশে এক অদ্ভুত মায়াবী সুর তৈরি করে, তখনই যেন শুরু হয় এক অন্যরকম রূপকথা। আজকের ম্যাচটি নীল-সাদা স্বপ্নে বোনা এক জাদুকরী ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি পাস আর ট্যাকল তৈরি করছে এক নতুন মহাকাব্য। আজকের দিনটি প্রতিটি আর্জেন্টাইন সমর্থকের কাছে এক গভীর আবেগের অনুভূতি; কেননা প্রথম ম্যাচেই জয়, তার ওপর মেসির হ্যাটট্রিক। সকাল থেকে প্রিয় জার্সি গায়ে জড়িয়ে, পতাকা উঁচিয়ে তারা এক অদৃশ্য জাদুকরী বন্ধনে আবদ্ধ হয়। রেফারির বাঁশি বাজার সাথে সাথে যেন এক জাদুকরের ইশারায় সময় থমকে দাঁড়ায়। মাঠের প্রতিটি মুভমেন্ট আর লিওনেল মেসির পায়ের জাদুকরী স্পর্শ দেখার প্রতীক্ষায় সমর্থকদের হৃৎস্পন্দন ওঠানামা চলে। প্রতিটি কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক যেন শ্বাসরুদ্ধকর এক অপেক্ষা। আর বল জালের দেখা পাওয়ার সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি কোনো শব্দে বর্ণনা করা অসম্ভব। তখন চারপাশ ফেটে পড়ে গগনবিদারী উল্লাসে, যা হাজারো মাইল দূর থেকেও আবেগের ঢেউ তোলে। আবার দল যখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তখন তাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস প্রিয় দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসারই প্রতিফলন। জয় বা পরাজয় উভয় ক্ষেত্রেই সমর্থকরা দলের পাশেই থাকেন, কারণ তাদের কাছে আর্জেন্টিনা দলটি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর্জেন্টিনার এই ফুটবল দর্শন হলো হার না মানা মানসিকতা আর নান্দনিকতার এক অনন্য সমন্বয়। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা গান আর টিভির সামনে বসা সমর্থকদের সম্মিলিত প্রার্থনা সবই যেন এক সুতোয় গাঁথা এক জাদুকরী মন্ত্র। এই আবেগ ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বের কোটি ভক্তকে একই নীল-সাদা স্বপ্নে একাত্ম করে তোলে। আজকের মতো প্রতিটা ম্যাচ ভালো করুক—এটাই কামনা করি।

তারেক আল মুনতাছির শিক্ষার্থী, কক্সবাজার সরকারি কলেজ।

ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে লিওনেল মেসির প্রাপ্তি

আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার ম্যাচে লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকের মুহূর্তটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অবিস্মরণীয় এক অনুভূতি। এ ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, এটি প্রাপ্তির খাতায় আরও একটি অর্জন। শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রতিটি পাস, প্রতিটি মুভমেন্ট এবং প্রতিটি আক্রমণে ফুটে উঠেছে তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ও দলগত সমন্বয়। অন্যদিকে, আলজেরিয়াও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করেছে, তবে আর্জেন্টিনার গতিময় ও সুশৃঙ্খল খেলার সামনে তারা বারবার চাপে পড়ে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের নিবেদন এবং জয়ের প্রতি অদম্য আকাঙ্ক্ষা পুরো ম্যাচজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই যেন সময় থমকে দাঁড়ায়, আর ১৭ জুন প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিকে ৩টি গোল করে তিনি প্রমাণ করলেন কেন তিনি সর্বকালের সেরা। ক্যারিয়ারের এই গোধূলিলগ্নে এসেও হ্যাটট্রিক করা এমন অনন্য কীর্তি কেবল তাঁর পক্ষেই সম্ভব। বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখে মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন, ফুটবল কীভাবে মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।

হুমাইরা খানম জেরীন শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

এক কিংবদন্তির জন্য এগারো হৃদয়ের লড়াই

বিশ্বকাপের ইতিহাসে লিওনেল মেসি—এই নামটার পাশে অগণিত রেকর্ড, অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্ত। তবুও কোথাও যেন একটুকরো অপূর্ণতা ছিল; ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে একটি হ্যাটট্রিকের অনুপস্থিতি। আর সেই অপূর্ণতাকে পূর্ণ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়েই যেন ১৭ জুন মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা দল। ম্যাচের প্রতিটি পাস ও প্রতিটি দৌড়ে ছিল বিশ্বাস, প্রতিটি আক্রমণে ছিল এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা। সতীর্থদের চোখে যেন একটাই স্বপ্ন—বলটা শেষবার জাদুকরের পায়েই পৌঁছাক। ফুটবল শুধু কৌশল বা জয়ের খেলা নয়, কখনো কখনো এটি ভালোবাসার ও আবেগেরও ভাষা। আজকের দিনটি নিঃসন্দেহে রোজারিওর সেই ছোট্ট লিওর, যার শৈশব ছিল সংগ্রামে ভরা, যার শরীরের সীমাবদ্ধতা একসময় তার স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। আর্জেন্টিনা দল বারবার প্রমাণ করে দেয়—একজন মেসি কেবল দলের অংশ নন, তিনি পুরো দলের হৃদস্পন্দন। তাই তো বলা হয়, মেসি খেলেন আর্জেন্টিনার জন্য আর পুরো আর্জেন্টিনা খেলে মেসির জন্য।

তাসনিয়া তাবাচ্ছুম শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

আকাশী-সাদার দেশে এক জাদুকরের গল্প

বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশের অলিগলি, শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ জুড়ে যেন নেমে আসে আরেকটি ছোট্ট আর্জেন্টিনা। আকাশী-সাদা পতাকার ঢেউয়ে ভেসে যায় চারপাশ। আর সেই আকাশী-সাদা আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে থাকেন একজন মানুষ– তিনি “লিওনেল মেসি”। ২০২৬-এর ১৭ জুনের সকালটি ছিল ঠিক তেমনই এক সকাল। বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন সাপোর্টার কিংবা ব্রাজিলিয়ান ফ্যান একযোগে টিভির পর্দায় তাকিয়ে – কেউ চাইছে জয়, কেউ পরাজয়। নানা তর্ক-বিতর্কে জমে ওঠে বাংলাদেশের প্রান্তর। ফুটবলের এ মহামঞ্চে ম্যাচ জিতিয়েছে অনেক দলই। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন, যার ওপর একটি পুরো জাতি, একটি পুরো দল, এমনকি কোটি কোটি সমর্থক নির্দ্বিধায় নিজেদের বিশ্বাস তুলে দিতে পারে। আর্জেন্টিনা দল ও ভক্তদের কাছে মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন। তিনি সেই ক্যাপ্টেন, যার হাতে আকাশে ঝড়ের রেখা দেখলেও নিশ্চিন্তে জাহাজের ভার তুলে দেওয়া যায়। এ দলের খেলা দেখলে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট বোঝা যায়– শর্ট পাস, লং পাস বা কাউন্টার অ্যাটাক যাই হোক, দলের বাকি দশজনের অদৃশ্য এক দায়িত্ব থাকে– “যে করেই হোক বলটা মেসির কাছে পৌঁছে দেয়া।” তারপর? তারপর যা হওয়ার, সেটা তিনি বুঝে নেবেন। প্রতিপক্ষরা স্কালোনির কৌশল বিশ্লেষণ করে, ভিডিও দেখে, পরিকল্পনা সাজায়। কিন্তু সমস্যা হলো, ট্যাকটিক্স দিয়ে ফুটবলকে হারানো যায়, ম্যাজিককে নয়। মেসি কখন দৌড় দেবেন, কখন বল ছাড়বেন, কখন হঠাৎ শট নেবেন—এটা পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক বিশ্লেষণ সফটওয়্যারও শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবে না। আর সেখানেই তিনি আলাদা, ফুটবলের জাদুকর। প্রথম ম্যাচে মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে জয় যেন তারই প্রমাণ। এক হ্যাটট্রিকেই একাধিক রেকর্ডে নাম তুলেছেন তিনি। মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনিই। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট। ম্যাচের সময় যখন ঠিক ৬০ মিনিট, ফুটবলের জাদুকরের পায়ে দ্বিতীয় গোল। ৭৬ মিনিটে আবারও ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল করেন মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এ কিংবদন্তি। মেসি বারবার মনে করিয়ে দেন, কিংবদন্তিরা শুধু খেলেন না, ইতিহাসের গতিপথও বদলে দেন। ফুটবল আসলে শুধু একটি খেলা নয়, কোটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও উল্লাসের নাম।

তানজিনা আক্তার চৈতি শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

বিশ্বকাপ মিশন শুরু আর্জেন্টিনার, অতঃপর মেসির হ্যাটট্রিক

আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঠিক আগের রাতে আমরা গুটিকয়েক ফুটবলপ্রেমী মানুষ জুম মিটিংয়ে আসন্ন ম্যাচ নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করছিলাম। প্রসঙ্গক্রমেই উঠে আসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কথা। বহুল প্রত্যাশিত সেই ম্যাচটি তখন আর কয়েক ঘণ্টা দূরে। কঠোর আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও অগ্রিম স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলাম আর্জেন্টিনার জয়ের কথা, হলোও তাই। মেসির হ্যাটট্রিকে তিন-শূন্য গোলে আলজেরিয়াকে হারিয়ে একটি সুন্দর ও বিশুদ্ধ সকালের সূচনা করলো আর্জেন্টিনা। তাদের এ জয়ের মধ্য দিয়ে পুনরায় স্থাপিত হলো ফুটবলের সৌন্দর্য, বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করলো দারুণ একটি ম্যাচ। আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবে নিজেকে বেশ গর্বিত মনে করছি তাদের জয়ের কেতন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে। আমি আশা রাখবো তাদের এই জয় পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব আবারও আর্জেন্টিনাকে চিনবে বিশ্বকাপজয়ী হিসেবেই।

জিসি দেবনাথ শিক্ষার্থী, আলমগীর মনসুর (মিন্টু) মেমোরিয়াল কলেজ।