বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

কোরবানির আনন্দ ও ত্যাগের মহিমা নিয়ে তরুণদের ভাবনা

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

দুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা আর আনন্দের বার্তা নিয়ে এই দিনটি আমাদের মাঝে ফিরে আসে। কোরবানির ঈদ, এর তাৎপর্য এবং আনন্দ নিয়ে তরুণরা নিজেদের ভাবনা ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতামতগুলো গ্রন্থনা করেছেন উম্মে সালমা

কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য ও সাম্যের শিক্ষা

মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য বছরের দুটি ঈদই অত্যন্ত আনন্দ ও গুরুত্বের। তবে ত্যাগের মহিমায় ঈদুল আজহা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই দিনে আমরা স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকি, আর এটিই হলো ঈদুল আজহার মূল মাহাত্ম্য। তবে এই উৎসব কেবল পশু কোরবানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোরবানির মাংস সঠিকভাবে বণ্টন করে আমরা পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের অসহায় মানুষদের মাঝে বিলিয়ে দিই। এর ফলে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষরাও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন না। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সাম্যের শিক্ষা লাভ করি। ব্যক্তিজীবনে এই শিক্ষার চর্চা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

নাইমা ইসলাম
শিক্ষার্থী, মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ।

উৎসর্গের অনন্য শুদ্ধতা ও পরিচ্ছন্নতার দায়বদ্ধতা

কোরবানির ঈদ শুধু উৎসব নয়, এটি পরম আত্মত্যাগের প্রতীক। এবারের ঈদে আমাদের মূলমন্ত্র হোক ‘পরিচ্ছন্ন মন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ’। পশু কোরবানির পাশাপাশি আমাদের ভেতরের অহংকার ও হিংসাকেও বিসর্জন দিতে হবে। ত্যাগের প্রকৃত মহিমা তখনই প্রকাশ পায়, যখন আমরা চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতন থাকি। কোরবানির পর পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করা আমাদের নাগরিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করে চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতাই ডেঙ্গু বা অন্যান্য রোগবালাই থেকে সবাইকে রক্ষা করতে পারে। আসুন, মাংস বিলানোর আনন্দের পাশাপাশি একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ উপহার দিই।

আশিক বিন আলম সোহাগ
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ

ঈদ মানেই হাসি আর আনন্দ। আর সেই আনন্দ তখনই পরিপূর্ণতা পায় যখন পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকে। পড়াশোনার ব্যস্ততায় সাধারণত পরিবার থেকে দূরেই থাকতে হয়। বাবা-মা মানেই পরম নির্ভরতা, আর তাদের সাথে ঈদ উদযাপনের অনুভূতিটাই অন্যরকম। তাই এবার বাবার সাথে ঈদ করার সুযোগ পেয়ে এক মুহূর্তও দেরি করিনি। বটগাছের ছায়ার মতো যে মানুষটি সবসময় পাশে থাকেন, এবার তার সাথেই ঈদ করছি। ছোটবেলায় যেভাবে প্রতিটি ঈদ কাটত, এখন হয়তো সেভাবে হয়ে ওঠে না। তারপরও শত ব্যস্ততার মাঝে এই দিনটিই সবাইকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে। ঈদ মানেই পরিবারের এক মিলনমেলা। আমার জীবনের প্রতিটি ঈদ এভাবেই পরিবারময় হোক। সবাই পরিবারের সাথে সুস্থ ও নিরাপদে ঈদ কাটান।

সুরাইয়া ইয়াসমিন সুমি
শিক্ষার্থী, সরকারি বি এল কলেজ।

পশু জবাইয়ে সচেতনতা ও মানবিকতা

পবিত্র ঈদুল আজহায় স্রষ্টার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা পশু কোরবানি করি। পশুরা অবুঝ প্রাণী, নিজেদের কষ্টের কথা তারা মুখে প্রকাশ করতে পারে না। তাই ইসলামে পশুকে অহেতুক কষ্ট না দিয়ে দয়ার সাথে জবাই করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। অনেক সময় অনভিজ্ঞ মানুষের মাধ্যমে জবাই করাতে গিয়ে পশুর তীব্র যন্ত্রণা হয় এবং নানা দুর্ঘটনাও ঘটে। তাই সবসময় দক্ষ ব্যক্তি বা কসাইয়ের মাধ্যমে অত্যন্ত ধারালো ছুরি দিয়ে দ্রুত জবাই সম্পন্ন করা উচিত। একটি পশুর সামনে অন্য পশুকে জবাই করা কিংবা ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। এছাড়া, বড় পশু নিয়ন্ত্রণের জন্য পর্যাপ্ত লোক ও শক্ত রশি ব্যবহার করতে হবে, যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। ইবাদতের পাশাপাশি পশুর প্রতি মানবিক হওয়া আমাদের অবশ্য কর্তব্য।

সাব্বির হাসান নিরব
শিক্ষার্থী, বাজিতপুর সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।