বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ
Network News BD
QR Code
নিউজ লিঙ্ক স্ক্যান করুন

কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, ঈদ হোক সহমর্মিতার

নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি ডেস্ক

ঈদুল আজহা কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক অনন্য উৎসব। নিজেদের ভেতরের পশুত্বকে বিসর্জন দিয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই এই পবিত্র দিনের প্রকৃত শিক্ষা। ঈদুল আজহার তাৎপর্য, কোরবানির মাংস বণ্টন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নেটওয়ার্ক নিউজ বিডি‘র কাছে নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। মতামতগুলো গ্রন্থনা করেছেন সাব্বির হাসান নিরব।

ত্যাগের চেতনা ও সামাজিক সহমর্মিতা

​শুধু পশু জবাই নয়, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহিমায় নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়াই ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা। ঈদ আমাদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে। দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান সমাজে আমরা অনেক সময় লৌকিকতাকে প্রাধান্য দেই। “কোরবানি দিচ্ছেন তো?” বা “কত দিয়ে গরু কিনলেন?”-এমন প্রশ্নে অন্যের আর্থিক বা মানসিক অবস্থা বিবেচনা না করেই আমরা অবলীলায় খোঁচা দিয়ে বসি। এতে ঈদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়। আসুন, এসব সামাজিক কটূক্তি ও প্রতিযোগিতা পরিহার করি। অন্যের সামর্থ্যকে সম্মান জানিয়ে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই।

সনিয়া আক্তার
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

ঈদ হোক অসহায়দের খুশির দিন

​ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনদের সাথে খুশি ভাগ করে নেওয়া। তবে এই আনন্দের মাঝেও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সমাজের সেইসব সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষদের কথা, যাদের দিন কাটে চরম অভাবে। ঈদ আমাদের সাম্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তাই উৎসবের এই আবহে আমরা প্রত্যেকে যার যার সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।

​ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা তরুণরা বা স্বেচ্ছাসেবীরা মিলে তহবিল গঠন করতে পারি। সেই অর্থ দিয়ে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর ঈদ উদযাপনের মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পূরণ করা সম্ভব। এই ধরনের সম্মিলিত প্রয়াস সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। একা সুখী হওয়ার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই, পারস্পরিক সহযোগিতা আর ভালোবাসায় এই ঈদ হয়ে উঠুক ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সমান খুশির দিন।

নাঈমা ইসলাম
মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ, ময়মনসিংহ।

 

সুবিধাবঞ্চিতদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি

​ঈদ আনন্দ কেবল উদযাপনের নয়, বরং সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক মহান শিক্ষা। আমাদের চারপাশে এমন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও পথশিশু আছেন, যাদের তিনবেলা ঠিকমতো খাবারই জোটে না। আর্থিক সংকটে ঈদের খুশি থেকে তারা বঞ্চিত হন। আমরা যারা সচ্ছল, তারা চাইলেই সামান্য সহায়তায় তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবেশী, রিকশাচালক বা অভাবী মানুষকে নতুন পোশাক ও ঈদসামগ্রী উপহার দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, নিজের আনন্দের পাশাপাশি চারপাশের মানুষের সাথে ঈদের খুশি ভাগ করে নিই। তবেই সার্থক হবে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য।

তানজিলা আক্তার তানু
শিক্ষার্থী, সরকারি আদমজীনগর এম.ডাব্লিউ. কলেজ নারায়ণগঞ্জ।

 

ত্যাগের মহিমায় সাম্য ও মানবতা

ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কোরবানির মাংস সঠিকভাবে বণ্টন করা। ইসলামী শিক্ষায় কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করাকে উত্তম বলা হয়েছে এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের জন্য এবং এক ভাগ গরিব, অসহায় ও অভাবী মানুষের জন্য। তবে এই বণ্টন বাধ্যতামূলক নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী কম-বেশি করা জায়েজ। ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রতিটি ভাগে ভালো মাংস, হাড় ও চর্বির সুষম মিশ্রণ রাখা উচিত। ইসলাম সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয় বলে অমুসলিম প্রতিবেশীদেরও সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে কোরবানির মাংস দেওয়া যায়। তবে কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে মাংস দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; তার মজুরি নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে। পরে চাইলে তাকে আলাদাভাবে হাদিয়া হিসেবে মাংস দেওয়া বৈধ। কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা কেবল পশু জবাই নয়, বরং ত্যাগ, ভাগাভাগি ও মানবিক দায়িত্ববোধে।

মাহজাবীন তাসনীম রুহী
শিক্ষার্থী, এম সি কলেজ সিলেট।

ঈদুল আজহা ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা

প্রতিবছর ১০ জিলহজ্জ ঈদুল আজহা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে হাজির হয় আনন্দ সওগাত ও ত্যাগের উজ্জ্বল মহিমা নিয়ে। উৎসবের আনন্দ কেবল নিজেদের মাঝে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ এই ঈদে নেই। কোরবানির মাংসের একটি অংশ গরিব, অসহায় ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরি হয়। মূলত, ঈদুল আজহা কেবল পশু জবাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি আমাদের ভেতরের অহংকার, লোভ ও চারিত্রিক দুর্বলতা দূর করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের এক অনন্য শিক্ষা দিয়ে যায়।

উম্মে সালমা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।

মধ্যবিত্তদের খবর রাখছি তো আমরা?

ঈদ মানেই আনন্দ, আর সবার অংশগ্রহণে সেই আনন্দ পায় পূর্ণতা। উৎসবের এই দিনে আমরা সুবিধাবঞ্চিত বা দরিদ্রদের কথা ভাবলেও, মধ্যবিত্ত পরিবারের নীরব কষ্টের কথা অনেক সময়ই আমাদের অগোচরে থেকে যায়। চক্ষুলজ্জা আর আত্মসম্মানবোধের কারণে অভাব থাকলেও তারা কারও কাছে কিছু প্রকাশ করতে পারেন না। অথচ এমন অনেক পরিবারই আর্থিক সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করে।

তাই এই ঈদে দরিদ্রদের পাশাপাশি আমাদের উচিত মধ্যবিত্ত আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া। তাদের সম্মানহানি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে অত্যন্ত কৌশলে তাদের ঘরে কোরবানির মাংস বা উপহার পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, মানুষের সম্মান অটুট রেখে সহযোগিতা করাই সবচেয়ে বড় মানবতা। আসুন, ভালোবাসা ও সহমর্মিতায় ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিই।

ফারিয়া ইসলাম
শিক্ষার্থী, সরকারি মহিলা কলেজ, ভৈরব।