শিরোনাম:
Network News BD
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মেনু
প্রচ্ছদ

© 2026 Network News BD

রক্তদানের আগে ডায়াবেটিস রোগীদের যা জানা প্রয়োজন

রকমারি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩:৪৩ PM ৯ বার পঠিত
রক্তদানের আগে ডায়াবেটিস রোগীদের যা জানা প্রয়োজন

ছবি: সংগৃহীত

রক্তদানকে বলা হয় মানবতার অন্যতম বড় উপহার। কিন্তু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকেই মনে করেন, এই রোগ থাকলে আর রক্তদান করা সম্ভব নয়। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই কেউ রক্তদানের অযোগ্য হয়ে যান না। বরং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদে রক্তদান করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্তদান করতে পারবেন কি না, সেটি নির্ভর করে মূলত ডায়াবেটিস কতটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তার ওপর। শুধু রোগটির উপস্থিতি নয়, বরং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল আছে কি না, কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না এবং রক্তদাতার সামগ্রিক স্বাস্থ্য কেমন, এসব বিষয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যদি রক্ত দিতে চান, তাহলে সেদিন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। পাশাপাশি বয়স, ওজন, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ও অন্যান্য সাধারণ যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে, যেগুলো সব রক্তদাতার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

অনেকের ধারণা, টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তদানের নিয়ম আলাদা। তবে চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগের ধরন নয়, বরং ব্যক্তির বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতিই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান ভিত্তি। অর্থাৎ টাইপ-১ কিংবা টাইপ-২, যেকোনো ধরনের ডায়াবেটিস থাকলেও যদি রোগটি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে, তাহলে রক্তদান সম্ভব হতে পারে।

আরেকটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, ইনসুলিন ব্যবহার করলে রক্তদান করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শুধুমাত্র ইনসুলিন নেওয়ার কারণে কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তদানের অযোগ্য বলা যায় না। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং ডায়াবেটিসজনিত বড় কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই ইনসুলিন গ্রহণকারী ব্যক্তিও রক্তদান করতে পারেন। তবে বিভিন্ন দেশের রক্তদান নীতিমালায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তাই স্থানীয় রক্তদান কর্তৃপক্ষের নিয়ম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

তবে সব পরিস্থিতিতে রক্তদান করা উচিত নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, সাম্প্রতিক কোনো অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন, সক্রিয় সংক্রমণ থাকে বা ডায়াবেটিসের কারণে কিডনি, চোখ, স্নায়ু কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রে জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে আপাতত রক্তদান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। একইভাবে যাঁদের ঘন ঘন রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যায়, তাঁদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ রক্তদানের সময় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় রক্তদাতার নিরাপত্তাকে।

যাঁদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাঁদের জন্য রক্তদান সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আনে না। তবে রক্তদানের আগে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমায় আছে কি না নিশ্চিত হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ করা উচিত নয়।

রক্তদানের পরও কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। পর্যাপ্ত তরল পান করতে হবে, সেদিন ভারী শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে, যা শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের নয়, অন্য রক্তদাতাদের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

রক্তদান শুধু একজন রোগীর জীবন বাঁচায় না, এটি মানবিক দায়িত্ববোধেরও অনন্য প্রকাশ। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে নিজেকে আগে থেকেই অযোগ্য ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনার রক্তে শর্করা যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, শারীরিক অবস্থা ভালো থাকে এবং চিকিৎসকের কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে আপনিও হতে পারেন একজন নিরাপদ রক্তদাতা। সচেতনতা বাড়লে এই ভুল ধারণা দূর হবে, আর আরও অনেক মানুষ এগিয়ে আসবেন জীবন বাঁচানোর এই মহৎ উদ্যোগে।

শুভ্র/

মন্তব্য করুন

আজকের নামাজের সময়সূচি (ঢাকা)

সময় লোড হচ্ছে...

ADVERTISEMENT

ফেসবুকে আমরা

প্রতিদিনের খবর ইমেইলে

লিংক কপি হয়েছে!